সংবাদ শিরোনাম:
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্লাস্টিক বোতলের বিনিময়ে গাছের চারা বিতরণ ভূরুঙ্গামারীতে ২৩ লাখ টাকার পণ্য ধ্বংস তিলাই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আরিফুল ইসলামের প্রার্থিতা ঘোষণা, এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ ভূরুঙ্গামারীতে অবৈধ সার মজুদ, দুই ব্যবসায়ীকে ১ লাখ টাকা জরিমানা দেবীগঞ্জ পৌর বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, পুড়ল ৪ দোকান ভূরুঙ্গামারীতে মাদক ও বাল্যবিবাহ বিরোধী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত ভূরুঙ্গামারীতে সারের দাবিতে সড়ক অবরোধ,প্রশাসনের হস্তক্ষেপে শান্ত ভূরুঙ্গামারীতে অবৈধ সার মজুদ, দুই ব্যবসায়ীকে ৪ লাখ ৫ হাজার টাকা জরিমানা ভূরুঙ্গামারীতে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত পিএম ইন্টারন্যাশনালের নিবন্ধিত ৭৪১ শিশুকে বই-খাতা রাখার র‌্যাক ও চেয়ার উপহার
রাজনৈতিক স্বার্থে জাকসু ব্যবহারের অভিযোগ, তিন দাবিতে স্মারকলিপি

রাজনৈতিক স্বার্থে জাকসু ব্যবহারের অভিযোগ, তিন দাবিতে স্মারকলিপি

আশিকুল ইসলাম, জাবি প্রতিনিধিঃ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদকে (জাকসু) রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের অপচেষ্টার অভিযোগ তুলে এর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল সচেতন শিক্ষার্থী।

বুধবার (০৮ এপ্রিল) বিকাল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও জাকসুর সভাপতি বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার, ন্যায়বিচার ও স্বার্থ রক্ষার সর্বোচ্চ প্রতিনিধিত্বশীল প্রতিষ্ঠান হিসেবে জাকসু সবসময় একটি নিরপেক্ষ ও সম্মানজনক অবস্থান বজায় রাখবে এমন প্রত্যাশা সাধারণ শিক্ষার্থীদের। তবে সাম্প্রতিক সময়ে জাকসুকে ব্যক্তিগত ও গোষ্ঠীগত রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের একাধিক অপচেষ্টা লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়।

এতে আরও বলা হয়, এ ধরনের কর্মকাণ্ড শুধু জাকসুর মর্যাদাই ক্ষুণ্ন করছে না, বরং সাধারণ শিক্ষার্থীদের ন্যায়সঙ্গত প্রত্যাশা ও আস্থার জায়গাতেও আঘাত হানছে। জাকসু কোনো ব্যক্তি বা দলের স্বার্থ রক্ষার প্ল্যাটফর্ম নয়; এটি সকল শিক্ষার্থীর অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করার একটি নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান।

স্মারকলিপিতে তারা জাকসুকে রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তিন দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো: জাকসুর নাম, প্যাড ও প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ব্যক্তিগত বা দলীয় রাজনৈতিক কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করা; অতীতে সংঘটিত এমন সকল ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ; এবং জাকসুর সকল কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা।

স্মারকলিপি প্রদান শেষে জাবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মোহাম্মদ রুবেল হুঁশিয়ারি করে বলেন, জাকসু নির্বাচনের পর থেকে আমরা দেখছি জাকসুকে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী তাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের স্বার্থে ব্যবহার করছে। তারা জাকসুর নামে এমন কিছু বিবৃতি দেওয়া, কর্মসূচি বাস্তবায়ন, ন্যারেটিভ তৈরি করাসহ এমন কিছু কাজ করছে যেগুলো বরাবরই ছাত্র শিবিরের কার্যক্রম বাস্তবায়নের নামান্তর। আমরা মনে করছি জাকসু জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার, ন্যায়বিচার এবং স্বার্থ রক্ষার সর্বোচ্চ প্রতিনিধিত্বশীল প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখে শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায় করবে। কিন্তু জাকসুর কতিপয় নেতাকর্মীদের কাজ সেটা বাস্তবায়ন করছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে না। আগামীকাল তারা একটি সেমিনার করছে যেটির শিরোনামে বলা হচ্ছে “সংসদীয় স্বৈরতন্ত্রে প্রবেশ এবং সংকটের পথে দেশ”- এ কথাটির মাধ্যমে জনগণের নির্বাচিত সরকারকে স্বৈরাচার বলার মতো অপচেষ্টা চালিয়েছে জাকসু। এমনকি যে সময়ে তারেক রহমানের সরকার দেশকে জ্বালানি সংকট ও অন্যান্য অস্থিতিশীল পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে সুন্দরভাবে দেশকে পরিচালনা করছে সেসময়ে তারা বলছে ” সংকটের পথে দেশ”। এসব থেকে বোঝা যাচ্ছে সেমিনারটি একটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে করতে যাচ্ছে তারা। আর, আমরা বলতে চাই, জাকসুকে রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে ব্যবহার হতে দিবো না। এ ঘটনায় আমরা তিব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। পাশাপাশি প্রশাসনকে বলবো অতিদ্রুত জাকসুর ব্যানারে এই ষড়যন্ত্রমূলক প্রোগ্রাম বন্ধ করুন। নইলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা এর বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলতে বাধ্য হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আ ফ ম কামালউদ্দিন হল সংসদের ভিপি জি.এম.এম. রায়হান কবীর বলেন, ” সাম্প্রতিক সময়ে জাকসুর নাম ও প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে যে ন্যাক্কারজনক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে, তা শুধু নিন্দনীয়ই নয় বরং শিক্ষার্থীদের অধিকার ও গণতান্ত্রিক চেতনার ওপর সরাসরি আঘাত।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা সচেতন শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে এই অপচেষ্টার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। অবিলম্বে এ ধরনের অনৈতিক কার্যক্রম বন্ধ করে জাকসুকে তার স্বকীয়তা ও নিরপেক্ষতা ফিরিয়ে আনতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দৃঢ় ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানাই।”

জাকসুতে ছাত্রদল মনোনীত নারী এজিএস প্রার্থী আঞ্জুমান ইকরা বলেন, “সম্প্রতি ‘গণভোট অস্বীকার ও অধ্যাদেশ বাতিলের রাজনীতি’ শিরোনামে যে কর্মসূচি জাকসুর ব্যানারে আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, এটি জাকসুর ক্ষমতার সীমা ও দায়বদ্ধতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তোলে। এটি কি সত্যিই শিক্ষার্থীদের স্বার্থে, নাকি একটি রাজনৈতিক অবস্থান চাপিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা?”

তিনি আরও বলেন, “সবচেয়ে হতাশাজনক বিষয় শিক্ষার্থীদের বাস্তব দাবি, অধিকার আদায়, এবং ক্যাম্পাসভিত্তিক সমস্যাগুলোর সমাধানে জাকসুর দৃশ্যমান ভূমিকা এখনো অনুপস্থিত।”

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে ভাগ করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি

Design & Development BY : ThemeNeed.com