ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে তিন মেয়েকে পাঁচবার বিয়ে করা একাধিক মামলার আসামী মিঠুকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠিয়েছে থানা পুলিশ ।
জানা গেছে, উপজেলার বঙ্গ সোনাহাট ইউনিয়নের গোনাইরকুটি গ্রামের সাবেক ইউ’পি চেয়ারম্যান মরহুম আলাউদ্দিন মন্ডল এর পুত্র মোশারফ হোসেন মিঠু ছনবান্ধা গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শাহনাজ পারভীন লাভলীকে ২৬মার্চ/২০০৭ ইং তারিখে ১ম বিয়ে করে। বিয়ের প্রায় ১৮ বছর পর মিঠু লোভের সাগরে ডুব দিয়ে দেওয়ানের খামার গ্রামের তালাক প্রাপ্তা মেয়ে মনিকা খাতুন (৩০) নামের এক নারীর সাথে প্রেম সাগরে ভাসতে থাকে এবং লাভলীকে তালাক দিয়ে তালাক গোপন রেখে প্রায় দেড় বছর ঘর সংসার করা অবস্থায় মনিকাকে নোটারী পাবলিক ক্লাবে ও পরে নিকাহ রেজিষ্টার অফিসে ১৮/১২/২০২৪ ইং তারিখে পাঁচ লক্ষ টাকা দেন মোহর ধার্য্য করে বিয়ে করে। বিয়ের ১২ দিন পর মনিকাকেও তালাক দেয়। এক পর্যায়ে প্রথম স্ত্রীর এক কন্যা সন্তান থাকায় মিঠু ভূল স্বীকার করে পূনরায় কাবিননামায় পাঁচ লক্ষ টাকা দেন মোহর উঠিয়ে দাম্পত্য জীবনে আবদ্ধ হয়। ক্ষিপ্ত হয়ে মনিকা ০৫/০১/২০২৫ ইং তারিখে ২০১৮ সালের যৌতুক নিরোধ আইনের ৩ ধারায় মিঠুর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করে । মামলা নিষপত্তি করতে মনিকার পরিবারের সাথে সম্বনয় করে চার লক্ষ টাকা জরিমানা দিয়ে মামলা শেষ করে । এরই ফাকে আবারও মিঠু পরকীয়ায় আসক্ত হয় সদর ইউনিয়নের বাগভান্ডার গ্রামের ‘সোমা” নামের এক গৃহ বধুর সাথে। সোমার পরকীয়ায় বাধা দেওয়ায় সিঙ্গাপুর প্রবাসী মঈনুদ্দিন নামের এক ব্যক্তির গলা কেটে দিয়েছিল তারই স্ত্রী ওই সোমা। পরকীয়ার বলী প্রবাসী স্বামী মঈনুদ্দিন উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাগভান্ডার গ্রামের নুর ইসলামের ছেলে। পরকীয়ার খবর শুনে স্বামী দেশে ফিরতেই তার সাথে ঝগড়া বাধায় সোমা। ঝগড়ার এক পর্যায় দুজনের মাঝে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এক পর্যায় নতুন ব্লেড দিয়ে তার স্বামীর গলা কেটে দেয় সোমা। পরে মুমূর্ষু অবস্থায় পরিবারের লোকজন মঈনুদ্দিনকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। অবস্থার অবনতি হলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে। ঘটনার ওই রাতেই বাগভান্ডার নামক এলাকা থেকে সোমাকে আটক করে জেল হাজতে পাঠায় পুলিশ। ঘটনাটি গত ১৫ ডিসেম্বর/২৪ ইং তারিখে দৈনিক যুগান্তর সহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদটি প্রকাশিত হয়। সোমা জামিনে এসে মিঠুর পরকিয়া প্রেমে হাবুডুবু খেতে থাকে। আবার প্রায় এক বছর সংসার চলার পর ১৮/০৯/২০২৫ ইং তারিখ ১ম স্ত্রীর বেতনের ও গচ্ছিত দুই লক্ষ নগদ টাকা, স্বর্ণ অলংকার গয়না নিয়ে উধাও হয় মিঠু। নিরুপায় হয়ে লাভলী ভূরুঙ্গামারী থানায় ২৮/০৯/২৫ ইং তারিখে একটি জিডি করেন। ১৮/০৯/২৫ ইং তারিখে মিঠুর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেই সোমাকে জরিয়ে ধরে স্ট্যাটাস দেয় “ বিয়ে করে ফেললাম আলহামদুলিল্লা ” কিছু দিন পর পর্দার সামনে চলে আসে মিঠু । ঘর সংসার চলতে থাকে সোমাকে নিয়ে। তার পর অভিযোগ ওঠে ১ম স্ত্রীকে নির্যাতন ও যৌতুক দাবী করায় গত ১২/১১/২০২৫ ইং তারিখে প্রথম স্ত্রী শাহনাজ পারভীন লাভলী বাদী হয়ে কুড়িগ্রাম সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্টেট ২য় আদালতে মামলা করলে পলাতক থাকে মিঠু । তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি হলে গত ৩০ এপ্রিল/২৬ ইং তারিখে ভূরুঙ্গামারী থানা পুলিশ সোনাহাট স্থল বন্দর এলাকা থেকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করে। অপরদিকে উপজেলার জয়মনিরহাট ইউনিয়নের ছোটখাটামারী গ্রামের সাজু মিয়ার পুত্র রুবেল মিয়া(২৮) কে দুইটি জি,আর মামলায় ওয়ারেন্ট থাকায় গ্রেফতার করে ভূরুঙ্গামারী থানা পুলিশ। রুবেল মিয়া ভূরুঙ্গামারী জি.আর মামলা নং ১১৮/২৪ ধারা ৪৫৭,৩৮০,৪১১ পেনালকোড ওয়ারেন্টভুক্ত ও নাগেশ^রী থানার জি.আর মামলা নং ৪২/১৯ ইং । রুবেল মিয়াকে তার বাড়ি থেকে আটক করে ভূরুঙ্গামারী থানা পুলিশ।
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি
Leave a Reply